පරිශීලක:Laka Mitra
বৌদ্ধ ভাবনা
[සංස්කරණය]সূচনা
[සංස්කරණය]১l উদ্দেশ্য
[සංස්කරණය]- চিত্ত সমাধির ক্রমবর্ধমান ও উন্নয়ন,
- বিমুক্তি
২l ভাবনা বা ধ্যান ২ প্রকার l
[සංස්කරණය]- সমথ ভাবনা বা কর্মস্থান ভাবনা,
- বিদর্শন ভাবনা l
সমথ ভাবনা বা কর্মস্থান ভাবনা
[සංස්කරණය]বৌদ্ধ ধর্মে সমথ ভাবনা বা কর্মস্থানের পদ্ধতি প্রধানত ৪০ প্রকার l তা হচ্ছে -ঃ
১l কসিণ ১০ টি,
২l অশুভ ১০ টি,
৩l অনুস্মৃতি ১০ টি,
৪l ব্রহ্ম বিহার ৪ টি,
৫l আরুপ্য ৪ টি,
৬l সজ্ঞা ১ টি,
৭l ববত্থান ১ টি l সর্বমোট ৪০ টি l
দস কসিণ বা ১০ টি কসিনা ভাবনা
[සංස්කරණය]গত কলামে উল্যেখ করেছি সমথ ভাবনা ৪০ প্রকার l এই ৪০ প্রকার সমথ ভাবনা আবার ৭ ভাগে বিভক্ত করেছে l এরই মধ্যে প্রথম কণ্ডে বা এক নম্বরে ১০ প্রকার কসিণ ভাবনা সম্পর্কে উল্যেখ আছে l বিশুদ্ধিমার্গে বর্ণিত দশটি কসিণ রয়েছে, যা পালি ত্রিপিটকেও উল্লেখ করা হয়েছে: (A.v.36, A.v.46-60, M.ii.14; D.iii.268, 290; Nett.89, 112; Dhs.202; Ps.i.6, 95). যথাঃ
১l পঠবী কসিণ (Earth) পৃথিবী কসিনা,
২l আপো কসিণ (water) পানি কসিনা,
৩l তেজো কসিণ (Fire) তেজ কসিনা,
৪l বাযো কসিণ (Air, wind) বায়ু কসিনা,
৫l নীল কসিণ,(Blue) নীল কসিনা,
৬l পীত কসিণ, (Yellow) হলুদ কসিনা,
৭l লোহিত কসিণ, (Red) লাল কসিনা,
৮l ওদাত কসিণ, (White) সাদা কসিনা,
৯l আকাস কসিণ, (Enclosed space) আকাশ কসিনা ও
১০l বিঞ্ঞাণ কসিণ বা আলোক কসিণ (Consciousness) চেতনা কসিনা বা (Bright light) উজ্জ্বল আলো কসিনা l
মনে রাখতে হবে এখানে ১০ নম্বরে যে দুই ধরনের "কসিনা" সম্পর্কে বলা হয়েছে তা পালি সূত্র মতে ও কিছু কিছু অন্য গ্রন্থে "বিঞ্ঞাণ কসিণ" শব্দটি উল্যেখ আছে l তবে, আচার্য্য বুদ্ধঘোষ ওনার বিশুদ্ধিমার্গ গ্রন্থে "আলোক কসিণ" বলে উল্যেখ করেছেন l
দস অশুভ বা ১০ টি অশুভ ভাবনা
[සංස්කරණය]গত কলামে উল্যেখ করেছি সমথ ভাবনা ৪০ প্রকার l এই ৪০ প্রকার সমথ ভাবনা আবার ৭ ভাগে বিভক্ত করেছে l এরই মধ্যে প্রথম কণ্ডে বা এক নম্বরে ১০ প্রকার কসিণ ভাবনা সম্পর্কে উল্যেখ করা হয়েছে l এবার দ্বিতীয় কণ্ডে বা দুই নম্বরে ১০ প্রকার "অশুভ" ভাবনা সম্পর্কে বলা হচ্ছে নিম্নে l বিশুদ্ধিমার্গে বর্ণিত দশটি "অশুভ" ভাবনা রয়েছে, যা পালি ত্রিপিটকের সতিপট্ঠান সূত্রেও উল্লেখ করা হয়েছে l যথাঃ
১l উদ্ধুমাতক - (ফুলে যাওয়া মৃত শরীর),
২l বিনীলিক - (নীল বর্ণ হয়ে যাওয়া মৃত শরীর),
৩l বিপুব্বত - (ফুঁস ঝরে এমন মৃত শরীর),
৪l বিচিছিদ্দক - (ছিদ্র ও দূষিত হওয়া মৃত শরীর),
৫l বিক্খায়িতক - (অন্য প্রাণীর দ্বারা মানুষের মৃতদেহগুলি টেনে টেনে এদিক সেদিক আনা নেওয়া হচ্ছে এমন এমন মৃত শরীর),
৬l বিক্খিত্তক - (অন্য প্রাণীর দ্বারা মানুষের লাশটি মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা এমন মৃত শরীর),
৭l হত বিক্খিত্তক - (এক এক জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা এমন মৃত শরীরের অংশ গুলো),
৮l লোহিতক - (রক্ত ঝরছে এমন মৃত শরীর),
৯l পুলবক - (কীটপতঙ্গে ভরপুর এমন মৃত শরীর),
১০l অট্ঠিক - (লাশ যে কঙ্কাল হয়ে গেছে এমন মৃত শরীর)।
দস অনুস্সতি বা ১০ টি অনুস্সতি ভাবনা
[සංස්කරණය]গত কলামে উল্যেখ করেছি সমথ ভাবনা ৪০ প্রকার l এই ৪০ প্রকার সমথ ভাবনা আবার ৭ ভাগে বিভক্ত করেছে l এরই মধ্যে প্রথম কণ্ডে ১০ প্রকার "কসিণ" ভাবনা, দ্বিতীয় কণ্ডে ১০ প্রকার "অশুভ" ভাবনা সম্পর্কে উল্যেখ করা হয়েছে l এবার তৃতীয় কণ্ডে বা তিন নম্বরে ১০ প্রকার "অনুস্সতি" ভাবনা সম্পর্কে বলা হচ্ছে নিম্নে l বিশুদ্ধিমার্গে বর্ণিত দশটি "অনুস্সতি" ভাবনা রয়েছে, যা পালি ত্রিপিটকের বিভিন্ন সূত্রেও উল্লেখ করা হয়েছে l যথাঃ-
১l বুদ্ধানুস্সতি - (বুদ্ধের নয়টি গুণ থেকে একটি গুণ নিয়ে সেই বুদ্ধের নামের অর্থ সহ জেনে স্মৃতি করা, যেমন "অরহং", "সম্মাসম্বুদ্ধ", "সুগত" ইত্যাদি থেকে একটি গুণ নিয়ে স্মৃতি করা l),
২l ধম্মানুস্সতি - (ধর্মের ছয়টি গুণ থেকে একটি গুণ নিয়ে স্মৃতি করা l),
৩l সংঘানুস্সতি - (সংঘের নয়টি গুণ থেকে একটি গুণ নিয়ে স্মৃতি করা l),
৪l সীলানুস্সতি - (কোন একটি শীল নিয়ে স্মৃতি করা l নিজে পরিশুদ্ধ ভাবে প্রতিটি শীল পালন করছে, এমনি গুণ নিয়ে স্মৃতি করা l),
৫l চাগানুস্সতি - (নিজে কোন কিছু দান বা পরিত্যাগ করেছে, এমনি গুণ নিয়ে স্মৃতি করা l ),
৬l কাযানুস্সতি - (নিজের শরীর অনিত্য, পরিবর্তনশীল, স্থির নহে, তেমনি শরীর অনিত্য বলে বুঝে স্মৃতি করা l),
৭l দেবানুস্সতি - (ত্রিশরণে প্রতি নিজের অশেষ শ্রদ্ধাদি গুণ ধর্ম্ম সম্পর্কে সম্যকদৃষ্টি সম্পন্ন পরের চিত্ত-চেতনা জানেন এমন দেবতাগণ আছেন এবং সেই অশেষ শ্রদ্ধাদি গুণ ধম্মের পূজা করার অভিপ্রায়ে মন জন্ম নেয়, বা সেই অশেষ শ্রদ্ধাদি গুণ ধর্ম চিত্ত উৎপন্ন করে।),
৮l মরণানুস্সতি - (মরণ নিয়ে স্মৃতি করা l),
৯l আনাপানসতি - (নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে স্মৃতি করা l),
১০l উপসমানুস্সতি - (তৃষ্ণা ক্ষয়ের একমাত্র পথ নির্বানকে নিয়ে স্মৃতি করা l)।
চারি "ব্রহ্ম বিহার" বা ৪ প্রকার ব্রহ্ম বিহার ভাবনা
[සංස්කරණය]গত কলামে উল্যেখ করেছি সমথ ভাবনা ৪০ প্রকার l এই ৪০ প্রকার সমথ ভাবনা আবার ৭ ভাগে বিভক্ত করেছে l এরই মধ্যে প্রথম কণ্ডে ১০ প্রকার "কসিণ" ভাবনা, দ্বিতীয় কণ্ডে ১০ প্রকার "অশুভ" ভাবনা, তৃতীয় কণ্ডে ১০ প্রকার "অনুস্সতি" ভাবনা সম্পর্কে উল্যেখ করা হয়েছে l এবার চতুর্থ কণ্ডে বা চার নম্বরে ৪ প্রকার "ব্রহ্ম বিহার" ভাবনা সম্পর্কে বলা হচ্ছে নিম্নে l বিশুদ্ধিমার্গে বর্ণিত চারি "ব্রহ্ম বিহার" ভাবনা রয়েছে, যা পালি ত্রিপিটকের বিভিন্ন সূত্রেও উল্লেখ করা হয়েছে l যথাঃ-
১l মেত্তা - (সকলের প্রতি মৈত্রী চিত্তে বসবাস করা বা স্মৃতি করা l),
২l করুণা - ( সকলের প্রতি সহমর্মিতা বা সহানুভূতিশীলা অর্থাৎ করুণা বলতে কারও দুরবস্থা অবস্থা (দুঃখ-কষ্ট) কে সহানুভূতির সঙ্গে উপলদ্ধি এবং অপরের দুঃখ-কষ্ট উপশম করার সচেতন প্রচেষ্টা বুঝায়। এই গুণটি নিয়ে স্মৃতি করা l),
৩l মুদিতা - (সকলের প্রতি মুদিতা (পরের সুখে সুখানুভব), মুদিতাকর্ম (পরের উন্নতি বা মঙ্গল দর্শনে সহানুভূতি) মুদিতাভাব (পরের উন্নতি ও ঐশ্বর্যে সন্তুষ্টি বা আনন্দ), মুদিতা-চিত্ত বিমুক্তি, এই গুণটিকে মুদিতা বলে। এইটি গুণ নিয়ে স্মৃতি করা l),
৪l উপেক্খা - (সকলের প্রতি উপেক্ষা, উপেক্ষাকর্ম (নিরপেক্ষতা বা মনের সমভাব) উপেক্ষাভাব (অপক্ষপাতিত্ব), উপেক্ষা-চিত্ত বিমুক্তি, এই গুণটিকে উপেক্ষা বলে। এইটি নিয়ে স্মৃতি করা l),
চারি "অরূপ্য" বা ৪ প্রকার অরূপ্য ভাবনা
[සංස්කරණය]গত কলামে উল্যেখ করেছি সমথ ভাবনা ৪০ প্রকার l এই ৪০ প্রকার সমথ ভাবনা আবার ৭ ভাগে বিভক্ত করেছে l এরই মধ্যে প্রথম কণ্ডে ১০ প্রকার "কসিণ" ভাবনা, দ্বিতীয় কণ্ডে ১০ প্রকার "অশুভ" ভাবনা, তৃতীয় কণ্ডে ১০ প্রকার "অনুস্সতি" ভাবনা, চতুর্থ কণ্ডে ৪ প্রকার "ব্রহ্ম বিহার" ভাবনা সম্পর্কে উল্যেখ করা হয়েছে l এবার পঞ্চম কণ্ডে বা পাঁচ নম্বরে ৪ প্রকার "অরূপ্য" ভাবনা সম্পর্কে বলা হচ্ছে নিম্নে l বিশুদ্ধিমার্গে বর্ণিত চারি "অরূপ্য" ভাবনা রয়েছে, যা পালি ত্রিপিটকের বিভিন্ন সূত্রেও উল্লেখ করা হয়েছে l যথাঃ-
১l আকাসানঞ্চাযতন - (অসীম অবকাশ বা স্থান বলে জানার কর্মস্থান l),
২l বিঞ্ঞাণঞ্চাযতন - ( অসীম চেতনা বলে জানার কর্মস্থান l),
৩l আকিঞ্চাঞ্ঞাযতন - (অসীম কোন কিছুই না বা শূণ্যতা বলে জানার কর্মস্থান l), ও
৪l নেবসঞ্ঞানাসঞ্ঞাযতন - (উপলব্ধি করার কিছুই নেই এবং অনুপলব্ধি করার কিছুই নেই বলে জানার কর্মস্থান। এইটি নিয়ে স্মৃতি করা ) l এই কর্মস্থান গুলো নিয়ে স্মৃতি করা l
১ প্রকার "সঞ্ঞা বা সজ্ঞা" ভাবনা
[සංස්කරණය]গত কলামে উল্যেখ করেছি সমথ ভাবনা ৪০ প্রকার l এই ৪০ প্রকার সমথ ভাবনা আবার ৭ ভাগে বিভক্ত করেছে l এরই মধ্যে প্রথম কণ্ডে ১০ প্রকার "কসিণ" ভাবনা, দ্বিতীয় কণ্ডে ১০ প্রকার "অশুভ" ভাবনা, তৃতীয় কণ্ডে ১০ প্রকার "অনুস্সতি" ভাবনা, চতুর্থ কণ্ডে ৪ প্রকার "ব্রহ্ম বিহার" ভাবনা, পঞ্চম কণ্ডে বা পাঁচ নম্বরে ৪ প্রকার "অরূপ্য" ভাবনা সম্পর্কে উল্যেখ করা হয়েছে l এবার ষষ্ঠ কণ্ডে ১ প্রকার "সঞ্ঞা বা সজ্ঞা" ভাবনা সম্পর্কে বলা হচ্ছে নিম্নে l বিশুদ্ধিমার্গে বর্ণিত একটি "সঞ্ঞা বা সজ্ঞা" ভাবনা রয়েছে, যা পালি ত্রিপিটকের বিভিন্ন সূত্রেও উল্লেখ করা হয়েছে l যথাঃ-
১l আহারে পটিক্কুল সঞ্ঞা বা সজ্ঞা - (আহারে প্রতিকুল বা অপ্রিয় ভাব উৎপন্ন করে প্রজ্ঞার সহিত অনিত্যতা স্মৃতি করা) l এখানে বিশেষ করে কেউ যখন আহার মূখে নেয়, মূখের ভেতর থেকে আহার গলা দিয়ে নিচের দিকে উদর পর্যন্ত গমন করেন, তখন আহারে অপ্রিয় ভাব উৎপন্ন করা ও অনিত্যতা প্রজ্ঞার সহিত স্মৃতি করা l
১ প্রকার "ববত্থান" ভাবনা
[සංස්කරණය]গত কলামে উল্যেখ করেছি সমথ ভাবনা ৪০ প্রকার l এই ৪০ প্রকার সমথ ভাবনা আবার ৭ ভাগে বিভক্ত করেছে l এরই মধ্যে প্রথম কণ্ডে ১০ প্রকার "কসিণ" ভাবনা, দ্বিতীয় কণ্ডে ১০ প্রকার "অশুভ" ভাবনা, তৃতীয় কণ্ডে ১০ প্রকার "অনুস্সতি" ভাবনা, চতুর্থ কণ্ডে ৪ প্রকার "ব্রহ্ম বিহার" ভাবনা, পঞ্চম কণ্ডে ৪ প্রকার "অরূপ্য" ভাবনা, ষষ্ঠ কণ্ডে ১ প্রকার "সঞ্ঞা বা সজ্ঞা" ভাবনা সম্পর্কে উল্যেখ করা হয়েছে l এবার সপ্তম কণ্ডে ১ প্রকার "ববত্থান" ভাবনা সম্পর্কে বলা হচ্ছে নিম্নে l বিশুদ্ধিমার্গে বর্ণিত একটি "ববত্থান" ভাবনা রয়েছে, যা পালি ত্রিপিটকের বিভিন্ন সূত্রেও উল্লেখ করা হয়েছে l যথাঃ-
১l চতুধাতু ববত্থান - (ধাতু মনসিকার মানে মানুষের শরীর চতুর মহা ধাতু দ্বারা ঘটিত, যেমন পঠবি, আপো, তেজো এবং বায়ো এই গুলো ভিন্ন ভিন্ন ভাবে নিয়ে প্রজ্ঞার সহিত অনিত্যতা স্মৃতি করা) l এটাকে যোনিসো মনসিকার বলা হয় মানে সম্যক দৃষ্টির সহিত বা নিকুত প্রজ্ঞার সহিত ধাতু গুলোকে নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে অনিত্যতা স্মৃতি করা l
বিদর্শন ভাবনা ৪ প্রকার l
[සංස්කරණය]বৌদ্ধ ধর্মে বিদর্শন ভাবনা প্রধানত ৪ প্রকার l তা হচ্ছে -ঃ
১l কাযানুপস্সনা,
২l বেদনানুপস্সনা,
৩l চিত্তানুপস্সনা,
৪l ধম্মানুপস্সনা l
এইরূপে সতিপট্ঠান সূত্রে উল্যেখ আছে l